গলার সামনের দিকে প্রজাপতির মতো দেখতে থাইরয়েড গ্রন্থি T3 ও T4 হরমোন তৈরি করে, যা শরীরের মেটাবলিজম, তাপমাত্রা, হৃৎস্পন্দন ও মেজাজ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। হরমোন কম তৈরি হলে তাকে হাইপোথাইরয়েডিজম, আর বেশি হলে হাইপারথাইরয়েডিজম বলা হয়। পুরুষদের তুলনায় নারীদের মধ্যে থাইরয়েড সমস্যা বেশি দেখা যায়।
যে লক্ষণগুলো খেয়াল রাখবেন
১. সবসময় ক্লান্ত লাগা
পর্যাপ্ত ঘুমের পরও শরীর ভারী লাগা, কাজে শক্তি না পাওয়া হাইপোথাইরয়েডের সবচেয়ে সাধারণ লক্ষণগুলোর একটি।
২. কারণ ছাড়া ওজন বাড়া বা কমা
খাওয়া-দাওয়া না বদলালেও ওজন বেড়ে যাওয়া (হরমোন কম হলে) বা দ্রুত কমে যাওয়া (হরমোন বেশি হলে) থাইরয়েডের ইঙ্গিত হতে পারে।
৩. অতিরিক্ত শীত বা গরম লাগা
অন্যদের চেয়ে বেশি শীত লাগা হাইপোথাইরয়েডে, আর অতিরিক্ত গরম লাগা ও ঘাম হাইপারথাইরয়েডে দেখা যায়।
৪. চুল পড়া ও শুষ্ক ত্বক
চুল পাতলা হয়ে যাওয়া, ত্বক খসখসে হওয়া ও নখ ভঙ্গুর হওয়া হরমোনের ঘাটতির লক্ষণ হতে পারে।
৫. বুক ধড়ফড়
বিশ্রামের সময়ও হৃৎস্পন্দন দ্রুত বা অনিয়মিত মনে হলে চিকিৎসকের সাথে কথা বলুন।
৬. অস্থিরতা, দুশ্চিন্তা বা মন খারাপ
হাইপারথাইরয়েডে অস্থিরতা ও উদ্বেগ, আর হাইপোথাইরয়েডে বিষণ্ণতা ও আগ্রহ কমে যাওয়া দেখা দিতে পারে।
৭. ঘুমের সমস্যা
রাতে ঘুম না আসা, অথবা দিনে অতিরিক্ত ঘুম পাওয়া — দুটোই হতে পারে।
৮. মনোযোগ কমে যাওয়া
কথা মনে রাখতে না পারা বা "ব্রেইন ফগ" — মাথা পরিষ্কারভাবে কাজ না করার অনুভূতি।
৯. মাসিকের অনিয়ম
মাসিক দেরিতে হওয়া, অতিরিক্ত বা কম রক্তক্ষরণ থাইরয়েড হরমোনের সাথে সম্পর্কিত হতে পারে।
১০. গলা ফুলে যাওয়া
গলার সামনে ফোলা ভাব (গলগণ্ড বা গয়টার) দেখলে দেরি না করে চিকিৎসকের কাছে যান।
কোন পরীক্ষা করাবেন?
থাইরয়েড বোঝার জন্য সাধারণত রক্তের TSH পরীক্ষা দিয়ে শুরু করা হয়। প্রয়োজনে চিকিৎসক Free T4, T3 এবং অ্যান্টিবডি পরীক্ষা (যেমন Anti-TPO) করাতে বলতে পারেন। ফলাফল দেখে চিকিৎসকই ঠিক করবেন আপনার কী দরকার।
দৈনন্দিন যত্নে যা করতে পারেন
- আয়োডিনযুক্ত লবণ ব্যবহার করুন এবং সুষম খাবার খান
- প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটুন বা ব্যায়াম করুন
- ৭–৮ ঘণ্টা ঘুমের চেষ্টা করুন, মানসিক চাপ কমান
- বছরে অন্তত একবার, অথবা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী থাইরয়েড পরীক্ষা করান